জাতীয় সংসদের কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল : জ্ঞাতব্য বিষয়

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পর প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টগণের উপস্থিতিতে ভোট গণনা শুরু করেন। ভোটগণনা শেষে ফরম-১৬-তে ফলাফল লিপিবদ্ধ করা হয় এবং উক্ত ফরমে প্রার্থী/এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণ করে তার অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের সরবরাহ করা হয়। এছাড়া উক্ত ফলাফল ভোট কেন্দ্রের বাইরে দর্শনীয় স্থানে টাংগিয়েও দেয়া হয়।
২। রিটার্নিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ফরম-১৬ এর ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার সব ফলাফল একীভূত করে ফলাফল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে রিটার্নিং অফিসার ফরম-১৮-তে ফলাফল একীভূত করে নির্বাচনের রিটার্ন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করেন। একীভূত বিবরণীর সত্যায়িত অনুলিপি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তাঁর এজেন্টকে প্রদান করা হয়। এ উভয় ফরমই প্রকাশ্য দলিল এবং সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বা পরবর্তীকালে সংগ্রহ করতে কোন বাধা নেই।
৩। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল জানার জন্য অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রওয়ারী ফলাফল ওয়েব সাইটে প্রকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল সমন্বিত করার সময় বা ফরম-১৬ হতে ফরম-১৮-তে নির্বাচনের ফলাফল উঠানোর সময় করণিক ভুলের কারণে কোথাও কোথাও ছোট খাটো ভুল হয়ে থাকে। তবে এ ধরণের ভুলে বিজয়ী প্রার্থীদের ফলাফলের কোন পরিবর্তন হয় না বিধায় এ বিষয়ে পরবর্তীতে তেমন কোন আপত্তি উত্থাপিত হতে দেখা যায় না। দ্বিতীয়ত, দেখা যায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্তকরণের সময় গেজেটে যে ভোটার সংখ্যা মুদ্রিত থাকে, পরবর্তীতে সম্পূরক তালিকার কারণে বা অনিবার্য কারণে কেন্দ্র পরিবর্তিত হলে কোন কোন কেন্দ্রে কদাচিৎ ভোটার সংখ্যার তারতম্য ঘটে। গেজেটে মুদ্রিত ভোটকেন্দ্রের ভোটার সংখ্যার সাথে এরূপ তারতম্য পরিলক্ষিত হলেও বাস্তবতা এই যে, ভোটগ্রহণের আগেই এ বিষয়েগুলো চূড়ান্ত হয়ে যায়। ব্যালট পেপার বা অন্যান্য নির্বাচনী মালামালও তদনুসারে সরবরাহ করা হয়। এ বিষয়ে প্রার্থী বা তাঁর এজেন্টরাও সম্পূর্ণ অবহিত থাকেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা করা হয় বিধায় এক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব থাকে না। যাতে এ বিষয়ে কোন সংশয়ের অবকাশ সৃষ্টি না হয় সে জন্য এ বিষয়গুলো নিম্নে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হল :
ক) ফরম ১৬তে যে ভুলটি বড় মাপের, তা এই যে, প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা মোট ভোটার সংখ্যার সমান বা ১০০% দেখানো। এবার ৪৩টি কেন্দ্রে এরকম ঘটনা ঘটেছে। এর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় নি বা অপ্রদত্ত ভোটকে বাতিল ভোটের কলামে দেখিয়ে (অর্থাৎ বাতিল ভোটের সাথে যোগ করে ও ওই ঘরের বিপরীতে দেখিয়ে) মোট ভোটার সংখ্যার সাথে তাঁর সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ সকল কেন্দ্রে বাতিল/অপ্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৫ শতাংশের অধিক। এই ৪৩টি কেন্দ্রের তালিকা ও ভোটার সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখলে এ বিষয়টি বোঝা সম্ভব হবে।
খ) ফরম ১৬ থেকে ফরম ১৮তে তোলার সময়ও করণিক ভুলের সম্ভাবনা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাতে সংখ্যার তারতম্য (কম বেশী দেখানো) হতে পারে, বা অনেক সময় এক প্রার্থীর ভোট অন্য প্রার্থীর বিপরীতে দেখানো হতে পারে। এরকম কোন ভুল আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয় নি। যেহেতু, এরকম কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি, বা এরকম ভুলের ফলে কোন প্রার্থীর ফলাফল বিপর্যয়ের কোন ঘটনা আমাদের গোচরে আসে নি, বা কোন প্রার্থী কোন অভিযোগও পেশ করেন নি, তাই এ পর্যায়ে এরকম ভুল নেই বলে ধরে নেয়া হয়েছে। তবে ফরম ১৬ অনুযায়ী ফলাফলের শুদ্ধতা রক্ষার জন্য সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।
গ) তৃতীয়ত ভোটকেন্দ্রের গেজেটের সাথে মিলিয়ে দেখলে কয়েকটি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যার তারতম্য হতে পারে। এর ব্যাখ্যাও আগেই দেয়া হয়েছে।
৪। কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের সময় এককভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত ফরম-১৬ এর উপর নির্ভর করা হয়েছে। অধিকন্তু প্রাথমিক দলিল হিসেবে ওয়েব সাইটে প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি মূল ফরম-১৬ এর স্ক্যানকৃত কপিও প্রদর্শন করা হয়েছে, যাতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ উল্লিখিত প্রার্থীর এজেন্টের স্বাক্ষরও রয়েছে।
৫। যেহেতু এবারই আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে ডাটাবেইজ প্রণয়ন করে এ তথ্যগুলো ভোটার এবং দেশের আপামর জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাই আশা করা যায় ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সকলে সচেতন হতে পারবেন। এতে দেশের সকল ভোটার তথা প্রার্থীগণ যে কোন কেন্দ্রের ফলাফল পুনরায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারবেন। তাছাড়া, ভবিষ্যতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ছোট খাটো ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করাও সম্ভব হবে, কারণ তাদেরও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে।
৬। এখানে ওয়েব পেজটিতে কেন্দ্রের ফলাফল কিভাবে বিন্যাস করা হয়েছে তা জেনে নিন:
• প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল আসনওয়ারী রক্ষিত আছে (যাকে কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত ফরম ১৮ হিসেবে বিবেচনা করা যায়)। ড্রপ ডাউন বক্স থেকে আপনার পছন্দের আসন সিলেক্ট করুন। একই সাথে সব কেন্দ্রের ফলাফল আপনার কাছে লভ্য হবে।
• সুনির্দিষ্ট কোন কেন্দ্রের ফলাফল দেখতে হলে ওই আসনের নামের পাশে কম্বো বক্স থেকে কেন্দ্রের নাম সিলেক্ট করুন।
• উল্লেখ্য, প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট গণনার পর প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক প্রণীত/স্বাক্ষরিত ফরম ১৬ও চাইলে দেখতে পারেন যা মূল থেকে স্ক্যান করে পিডিএফ ফাইলরূপে সংযুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হাইপারলিংক রূপে আছে। কেন্দ্রের নামে ক্লিক করলে তা দেখা যাবে ।
৭। দেশে ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা গেজেট অনুযায়ী ছিল ৩৫,২১৪। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য প্রথমে একটি ডাটাবেজ তৈরী করতে হয়। এতগুলো কেন্দ্রের ফলাফল একটি ডাটাবেইজে সমন্বিত করা জটিল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এ তালিকা প্রণয়নের সময় অর্থাৎ ডাটা এন্ট্রির সময় এর শুদ্ধতা রক্ষার জন্য যথাসাধ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এর জন্য সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে, অপর দিকে এ কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সবার দক্ষতাও সমান ছিল না। ফলে আমাদের অজ্ঞাতসারে এবং অনিচ্ছাকৃত কোন ত্রুটি থেকে যেতে পারে। এরকম কোন ত্রুটি থেকে থাকলে এবং তা আপনাদের নজরে আসলে দয়া করে আমাদের জানাবেন, আমরা দ্রুত তা শুদ্ধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে আপনাদের যে কোন মতামত আমাদের জানাতে পারেন।

Last update: 25 May 2009, 17:00 | © 2000-2009, Election Commission Secretariat, Bangladesh. All Rights Reserved

Developed and maintained by ICT Wing, Election Commission Secretariat, Bangladesh .